পদ্য


salauddin_salman_poem.jpg

বিচ্ছেদ আর ব্যবচ্ছেদ এক নয়

সালাহউদ্দিন সালমান

নীল জ্যোৎস্নার আশ্বাস দিয়ে আমাকে আর সোনা পোড়া আগুনে জ্বালিওনা যে ঢেউ চেয়ে উদলা বুকে প্রতীক্ষায় থাকো নিশিরাত সে ঢেউ আর কোনদিন তোমার বুক ছুঁবেনা তোমার মধ্যে তোমাকে উত্তপ্ত করতে আমার বুকের ঢেউ আর তোমার বুকে ভাঙবেনা। বিচ্ছেদ আর ব্যবচ্ছেদ এক নয় যদি বিচ্ছেদের জ্বলন্ত আগুনে ফেলে এই নিষ্পাপ প্রাণকে জ্বালাময়ী ভালোবাসায় শাস্তি দিতে আমি তোমার সমস্ত ভুলের অন্ধকার দুহাতে সরিয়ে পরস্পর মিশে একাকার হতাম অবিনশ্বর আলোর উৎসে। কিন্ত তুমিতো আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছো তোমার থেকে আমাকে স্বহস্তে দূরে ঠেলে দিয়েছো একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দূর দূরত্বে ইচ্ছে করলেই এখন শুধু অঞ্জলিতে নয় মুঠো করেও রাখতে পারিনা দেবদূত থেকে পাওয়া আমাদের সেই নীল জ্যোৎস্না।....


দুখাই রাজের দুটি কবিতাঃ স্মৃতিগুলো স্পর্শ কাতর ও মরাল

দুখাই রাজ

। । স্মৃতিগুলো স্পর্শ কাতর । । স্মৃতিগুলো মরে যাক সেই কবে বিংশ শতাব্দির একবছর অতিবাহিত হয়ে গেছে সেদিন দেখা হয়ে গেছে জীবনের ঠোঁট পাশাপাশি, আমি অথবা জীবন সেই সময়ের কথা বলছিনা যে মুহূর্ত হাহাকারের,দোমড়ানো কিম্বা কোকড়ানো সুখের সময়গুলো ক্ষীণ নির্দিধায় উবে যাওয়া পথের কোলে সুখ অথবা শোকগুলো হারিয়ে যায় স্মৃতিগুলোও যাক, যাক সেভাবেই পুরনো জলসায় ফিরে যেতে খুব মনে টানে স্মৃতিগুলো আগুনমুখো মরাল মাহাজাগতিক মরালেরা উড়তে শেখেনি, আলাপনের মুণ্ডন করে বালির জলে হেঁটে হেঁটে মাইল মাইল, ভেতরের অভ্যর্থনায় ঢুকে যায় খোঁয়াড়ে। মৃদু হাসি লাউড হয়ে ক্ষরণকালের শ্রেষ্ঠ আনন্দ ছুঁয়ে ক্ষীণ সময় অতিবাহিত হয়। দীর্ঘ কাটাছেড়ার বেখেয়ালে রেখে দেয়া হয়েছিল ঘরের বাইরে। মমির ব্যান্ডেজের ফালিতে কিছুটা হলুদ তখনো। ময়লা ছেঁড়া জুতো একটি টিকে ছিলো টিনের কৌটায়। ধেই ধেই সড়াৎ সড়াৎ হুড়মুড় কিয়দ লুফে নেয় আবেগ। ততোদিনে মমি শুকিয়ে কাঠ। বেভোলা ঘড়ির কাঁটা! বেতাল সুর আর বিতস মুখ মরালের ছিলোনা। দুখাই রাজ দুখাই রাজ। নামের মধ্যেই যেন কবিতার স্পন্দন। পিতা সামরিক বাহিনিতে কর্মরত থাকা সুবাদে বেড়ে ওঠাটা তাই দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে....

dukhai_raj_prossod.jpg

nostalgic_satkahan.jpg

নস্টালজিক

আবু নাঈম

একদিন এইটুকু পথ পাড়ি দিত অদেখা ফাগুন আধপাকা ঘর, মেঠোপথ দিয়ে হনহনিয়ে ছুটে চলা সাইকেল আর রিকশার আধিপত্য নিয়ে পেরিয়ে যেতো দুরন্ত সময়। মেঠোপথ মিশে যেতো খাল আর ধানক্ষেতে, সাঁকো গড়ে তুলতো বিরামহীন যোগফল। ভগ্নাংশের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শুনেছি নৌকা পায়ে হাঁটা সময়ের গল্প, গরুর গাড়ী আর গাড়োয়ালের গান। মাইলের ব্যবধানে জন্ম নেয়া ইশকুল বাড়ীতে দল পাকিয়ে যাওয়া শৈশবেরা বার্ধক্যে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। নারকেল গাছ, শীতের পুলি পিঠা, খেজুরের রসের জ্বাল... মরিচের ক্ষেত, হলুদের বাগান ছেড়ে আসা নকশীকাঁথার উঠোনে এখন অফুরান জায়গা। গড়ে উঠছে সুউচ্চ দালান কোঠা, পাকা রাস্তায় দৌড়চ্ছে গতিশীল চার চাকার গাড়ী। সময়ের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছুই প্রযুক্তি কেড়ে নিচ্ছে প্রাণের আবাদ, যান্ত্রিকতা কেড়ে নিয়েছে আমাদের যত সৃষ্টিশীল মনন।....


নগরকোট

কাইয়ুম চৌধুরী

বৃত্তাকারে ঘুরে গেছে পথউঠছি ওপরে। ক্ষুদ্র হয়ে আসে অরণ্যানীজনবসতি। কঠিন বাঁক ঘুরলেই দেখিআকাশের গায়ে গিরিশ্রেণী। পরতে পরতে নীলাভ নীলের মাঝেসবুজ ছায়া। নিমেষে গাঢ়তর, বোতল সবুজ। সূর্য হেলে পশ্চিমেক্রমান্বয়ে অন্ধকার গিরি, আকাশ ধূসর। ধেয়ে আসে মেঘের পর মেঘেধূসর প্রলেপ পাহাড়ের গায়, মেঘ নিচে নামে, ক্রমশ: বিলীনপাহাড়ের সারি, অদৃশ্য লোকালয়। মেঘের আনাগোনা, বৃষ্টি একটানাদৃশ্যাবলি মুছে যায়, মেঘরাজ্যে বসবাস, ঘন হয়ে আসে ছায়া রং ছায়াআঁকার অপেক্ষায় যেন সাদা ক্যানভাস। ক্বচিৎ দেখা দেয় পাহাড়ি গ্রামদোকানপাট, দেয়াল লিখন— সান মিগুয়েল তৃষ্ণার হাতছানিচলেছি ঘুরে ঘুরে পথ নির্জন। বাঁক ফিরে সামনে দেখি পাহাড়ি মেয়েরাস্তা পারাপার পিঠে নিয়ে মোট, মেঘে মেঘে ঢাকা পাহাড় চূড়াতৃষ্ণাতুর অবকাশে জেগে আছে নগরকোট।....

sangeeta-madhuri1.jpg