কচিকাচা


sirsendu-kholos1.jpg

খোলস

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

স্কচের বোতলটা খুলতেই একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ বেরিয়ে এল। তারপর যেন নিজেকে একটু সামলে নিয়ে একটা ভারী মোটা গলা বলে উঠল, হাই! গুড ইভনিং! বোতলটার খোলা গোল মুখটার দিকে স্থির চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বিষাণ বলল, ইভনিং! কিন্তু দীর্ঘশ্বাসটা কেন? দীর্ঘশ্বাস! ওঃ, নো নো! দীর্ঘশ্বাস কেন হবে। জাস্ট ইগনোর ইট। দীর্ঘশ্বাসটাও কিন্তু একটা এক্সপ্রেশন। আমার জন্য দুঃখ হচ্ছে? আরে নাঃ! সন্ধের পর দুনিয়ার লক্ষ লক্ষ লোক হুইস্কি নিয়ে বসে, দুঃখ কীসের? আনন্দ করার জন্যই তো হুইস্কি! কিন্তু আমার তো সবসময়ে হুইস্কি খেলে আনন্দ হয় না। কখনও কখনও ভারি দুঃখও হয়। ভীষণ দুঃখ, আই ফিল লোনলি। তা হলে মালে গন্ডগোল আছে। ব্র্যান্ড চেক করে নেবেন। দোষটা বোধহয় ব্র্যান্ডের নয়। দুঃখও একটা এনজয়মেন্ট। তা হলে তো ঠিকই আছে। দুঃখেও যদি আনন্দ হয় তো বাক আপ। সঙ্গে একটু শুয়োরের নাড় খেয়ে দেখুন, ব্যাপারটা জমে যাবে। শুয়োরের নাড়? সসেজের কথা বলছিলাম স্যার। ফ্রিজে আছে। ফ্রিজটা নিঃঝুম হয়ে ছিল। ভিতরের ঠান্ডা আরামে যেন কুঁকড়ে বসে আছে। চেতনা নেই। বিষাণ উঠে গিয়ে ফ্রিজের পাল্লাটা খুলতেই ভিতর থেকে একটা বিরক্তির শব্দ বেরিয়ে এল, আঃ, জ্বালালে! মাঝ....


মাটির গভীরে

উল্লাস মল্লিক

ধু ধু সবুজ ধানের খেতে উলুটি-পালুটি হাওয়া, কচি শীষগুলো ঢলাঢলি করছে আহ্লাদে। সবুজ চিরে শুয়ে থাকা কালো পিচ রাস্তা দিয়ে রং-চটা নীল অ্যাম্বাসাডর গাড়িটা তীব্র গতিতে ছুটছে। পেছনের সিটে শরীর এলিয়ে কো-অপারেটিভ ইনস্পেক্টর সত্যব্রত রায়। বুকের দুটো বোতাম খোলা। গাড়ির জানলা বন্ধ করলে ভ্যাপসা গুমট, খুলে রাখলে উত্তপ্ত বাতাসের ঝাপটা। ব্যাঙ্ক সুপারভাইজার হাওয়া আড়াল করে চমত্‌কার কৌশলে সিগারেট ধরিয়ে ফেলে একটা। এক ঘণ্টার মধ্যে এটা তিন নম্বর। সত্যব্রত বিরক্ত। সে নন-স্মোকার জেনেও ভদ্রলোক একটার পর একটা সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। দুই ভুরুর মাঝখানে বিরক্তিটা সেঁটে বাইরে তাকায় সত্যব্রত। দু’পাশে দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে সবুজ খেত আর রাস্তা-লাগোয়া খটখটে নয়ানজুলি। সবুজের মাঝে উঁচিয়ে থাকা হাই-টেনশন লাইনের রুপোলি ব্রিজগুলো রোদে ঝলকাচ্ছে। কো-অপারেটিভ ইনস্পেকটরের পদে এখনও বছর ঘোরেনি সত্যব্রতর। এতদিন বিচিত্র ডাকছাড়া ফ্যানের নীচে, মাকড়সার জাল বিছানো ঘরে নড়বড়ে চেয়ার-টেবিলে বসে ফাইল উল্টেছে। এবার ইয়ার এন্ডিং-এর ঝামেলা তাকে টেনে নামিয়েছে মাঠে। প্রচুর লোন অনাদায়ী। তাগাদা করে, চাপ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে চাষিদের কাছ থেকে আদায় উসুল করত....

ullas_0.jpg